আটলান্টিক মহাসাগরের অববাহিকায় অবস্থিত বারমুডা ট্রায়াঙ্গল
প্রায় ২৬ লাক্ষ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় বিস্তৃত।বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের তিনদিকে স্থলভাগ যথাঃ ফ্লোরিডা, পুয়ের্তো রিকো এবং ক্যারিবীয়ন দ্বারা বেষ্টিত যা কাল্পনিক ত্রিভূজ আকৃতির এলাকা এজন্য এটা বারমুডা ট্রায়াঙ্গল নামে পরিচিতি।
বারমুডা ট্রায়াঙ্গল নিয়ে রচিত আছে বহু কাল্পনিক ঘটনা, এটাকে অনেকে শয়তানের ত্রিভূজ নামে আখ্যা দিয়েছেন
এটার উপর দিয়ে যেসকল জাহাজ এবং বিমান উড়ে যায় তা মূহুর্তের মধ্যেই গায়েব হয়ে যায়
এবং বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের উপর দিয়ে বিমান যাওয়ার সময় বিমান কম্পাসের কাটা ভূল নির্দেশনা দেয়।
১৯৬৪ সাল থেকে ১৯৭৪ সালের ঘটে যাওয়া নানা আলৌকিক ঘটানার বর্ননা পাওয়া যায় যেমনঃ বারমুডা ট্রায়াঙ্গলে মহাজাগতিক জীবের আক্রমনের ফলে জাহাজ এবং বিমান নিখোঁজ হয়ে যায়
আবার অনেকে বলেছেন যেহেতু কম্পাস ঠিকমত কাজ করে না তাহলে বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের কোথায় শক্তিশালী চুম্বক আছে, এসব ঘটনা সমূহের কোনটিরই বৈজ্ঞানিক প্রমান পাওয়া যায় না।
পত্রিকা বা গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে এ ট্রায়াঙ্গল নিয়ে বেশ কিছু বই লেখা হয় মার্কিন সাংবাদিক বিন সেন কেরিস ইনভিজেবলস হরাইজন্স নামে একটি বই লেখেন
এরপরে মানুষ এটি নিয়ে আরো বেশি কল্পনা করতে শুরু করেন। এটাকে ঘূর্ণিঝড়ের পথও বলা হয়। আটলান্টিক মহাসাগরে যেসকল ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয় তার প্রায় সকল ঘূর্ণিঝড়ই এ ট্রায়াঙ্গল অতিক্রম করে যা সমুদ্র উত্তালের অন্যতম কারণ যার ফলে পথগামী জাহাজগুলো সহজেই বিপদের মুখে পতিত হয়।
১৯৭৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষক ল্যারি কুশা, বারমুডায় ঘটে যাওয়া কয়েক বছরের সংবাদপত্র পর্যালোচনা করে এবং ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা অনুসন্ধান করে একটি বই লেখেন যেটার নাম দেওয়া হয় "বারমুডা ট্রায়াঙ্গল মিস্ত্রি সল্ড" এই বইতে তিনি প্রমান করেন বারমুডা ট্রায়াঙ্গল সম্পর্কে যে তথ্য বা রহস্য বর্ননা করা হয়েছে সে সব বইগুলো প্রমাণহীন, অতিরঞ্জিত বা কাল্পনিক।
পত্র পত্রিকায় যে সকল জাহাজকে সম্পূর্ণ নিখোঁজ বলা হয়েছে যে সকল জাহাজ দুর্ঘটনার পরে পাওয়া গেছে অথবা জাহাজ উদ্বারের খাবর গণমাধ্যম আর প্রকাশিত হয় নি
জাহাজ নিখোঁজের অনেক ঘটনা বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের আসে পাশে ঘটলেও তা এ এলাকার বলে চালিয়ে দেওয়া হত
এছাড়া কম্পাসের ভূল নির্দেশনের ব্যাপারটি হল পৃথিবীর ভূগোলিক মেরু এবং চুম্বুকীয় মেরুর পার্থক্য থাকার কারনে বিভিন্ন স্থানে কম্পাসের বিক্ষেপের ভিন্নতা দেখা দেয়।
বারমুডা ট্রায়াঙ্গলে অবস্থান কালেও ভূগোলিক মেরু এবং চুম্বুকীয় মেরুর অসামঞ্জস্যতার কারণে কম্পাস সঠিক দিক নির্দেশ করতে পারে না।
বারমুডা ট্রায়াঙ্গলে রহস্যময়ভাবে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুযোগ নিয়ে অনেক জাহাজ মালিকরা ইচ্ছা করে জাহাজ ডুবিয়ে দিয়ে বিমার টকা পরিষোধ করেছে বলে জানা যায়।
আসলে আটলান্টিক মহাসাগরের পাশে অবস্থিত বারমুডা ট্রায়াঙ্গল খুবই ব্যাস্ত পথ এখানে যে পরিমাণ দুর্ঘটনা হওয়ার কথা তা অন্য সমুদ্র পথের তুলনায় খুব একটা বেশী না
এবং এক সময় অনেক জলদস্যু ছিল যারা জাহাজের সবকিছু লুটপাট করে নিয়ে জাহাজ পানিতে ডুবিয়ে দিত।

إرسال تعليق